যুক্তরাষ্ট্রের বিপজ্জনক সময়ে হামলা, বদলে যাবে নির্বাচনের চিত্র

৪ দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো এমন একজন নেতা হত্যা প্রচেষ্টায় আহত হলেন, যিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন। আমেরিকান ইতিহাসের একটি বিপজ্জনক মুহূর্তে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনাটি ঘটল। খবর বিবিসি ও নিউইয়র্ক টাইমসের
সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ, বিল ক্লিনটন, জর্জ ডব্লিউ বুশ এবং বারাক ওবামা তাদের মেয়াদের সময় বা তার পরে ব্যর্থ হামলার শিকার হয়েছিলেন। তবে ট্রাম্পই প্রথম কোনো বর্তমান বা সাবেক প্রেসিডেন্ট, যিনি ১৯৮১ সালে রোনাল্ড রিগানকে গুলি করার পর সহিংসতার ঘটনায় আহত হলেন। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রধান দুটি দলের নির্বাচিত এবং অন্যান্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হুমকি বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে।
ট্রাম্পের মুখে রক্ত নিয়ে মুষ্টিবদ্ধ হাত ছুড়ে এবং সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে মঞ্চ থেকে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে যাওয়ার বিরল চিত্রগুলো শুধু ইতিহাস তৈরি করবে না, সেগুলো আগামী নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পথ বদলে দিতে পারে।
রাজনৈতিক সহিংসতার জঘন্য কাজটি নির্বাচনী প্রচারে অনিবার্যভাবে প্রভাব ফেলবে। ট্রাম্পের রক্তক্ষরণের ছবি, প্রতিবাদী মুষ্টিবদ্ধ হাত রাজনৈতিক প্রচারের অনুষঙ্গ হবে। ট্রাম্পের ছেলে এরিক ট্রাম্প দ্রুতই সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘এমন যোদ্ধাই আমেরিকার দরকার।’
তাঁকে যখন সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা নিরাপদে বের করে নিয়ে যাচ্ছিলেন, সে সময় সমাবেশস্থলে তাঁর এক অনুসারী চিৎকার করে বলছিলেন, ‘ট্রাম্প আজই প্রেসিডেন্ট পদে জিতে গেলেন। তিনি একজন শহীদ।’
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হামলার পরপরই টিভিতে হাজির হয়ে বলেছেন, আমেরিকায় এ ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো স্থান নেই। তিনি তাঁর রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীর জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শুধু তাই নয়, বাইডেন সব নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ করে দিয়েছেন এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাঁর টেলিভিশন বিজ্ঞাপনও সরিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বিশ্বাস করেন, এই সময়ে ট্রাম্পকে আক্রমণ করা অনুচিত হবে। বরং তিনি হামলার নিন্দায় সরব হয়েছেন।
তবে ট্রাম্পের কিছু ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং সমর্থক ইতোমধ্যেই সহিংসতার জন্য বাইডেনকে দায়ী করছেন। একজন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান এক্সে একটি পোস্টে বাইডেনের বিরুদ্ধে ‘হত্যায় প্ররোচণা দেওয়ার’ অভিযোগ করেছেন। অন্য রিপাবলিকান রাজনীতিবিদরাও একই কথা বলছেন। আমেরিকার রাজনীতিতে একটি বিপজ্জনক সময়ে তারা তাদের বিরোধীদের নিন্দায় মুখর হয়েছেন।
ইতোমধ্যেই আমরা দেখতে পাচ্ছি, যুদ্ধরেখা টানা হচ্ছে, যা একটি গভীর মর্মান্তিক ঘটনার জন্য খুব কুৎসিত লড়াইয়ে পরিণত হতে পারে। এ ঘটনা নির্বাচনী প্রচারণাকে নতুন আকার দেবে।
এবিসিবি/এমআই