Type to search

আন্তর্জাতিক

প্রিন্স হ্যারির খেতাব বাতিল চান ৪৪ শতাংশ ব্রিটিশ

নেটফ্লিক্সে ‘হ্যারি অ্যান্ড মেগান’ সিরিজ প্রকাশের পর ব্রিটিশ জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এর জেরে প্রিন্স হ্যারির রাজকীয় খেতাব কেড়ে নেওয়া উচিত বলে প্রায় অর্ধেক ব্রিটিশ মত প্রকাশ করেছেন।

দ্য টাইমসের পক্ষে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে ইউগভ এ বিষয়ে জরিপ চালায়। জরিপে অংশ নেওয়া ৪৪ শতাংশ লোকের অভিমত, প্রিন্স হ্যারির রাজকীয় উপাধি কেড়ে নেওয়া উচিত। মাত্র ৩২ শতাংশ লোক প্রিন্স হ্যারির রাজকীয় খেতাব বহাল রাখার পক্ষে মত দেন। খবর- যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের।

জরিপের ফল বলছে, উত্তরদাতারা প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেলের চেয়ে প্রিন্স উইলিয়াম ও তার স্ত্রী কেট মিডলটনের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল ছিলেন।

সিরিজটি রিলিজের পর হ্যারি ও মেগান সম্পর্কে ২৩ শতাংশ লোকের ধারণা নেতিবাচক হয়েছে। তাদের সম্পর্কে মাত্র সাত শতাংশ মানুষ ইতিবাচক ধারণা লাভ করেছেন।

জরিপে অংশ নেওয়াদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ লোক বিশ্বাস করেন, এই দম্পতি নিজস্ব ইচ্ছায় রাজপরিবার ছেড়েছিলেন। মাত্র ১১ শতাংশ মনে করেন পরিবার তাদেরকে জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছিল।

সিরিজটি রিলিজের পর হ্যারি ও মেগান সম্পর্কে ২৩ শতাংশ লোকের ধারণা নেতিবাচক হয়েছে।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে ব্রিটিশ রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে সরে যান হ্যারি-মেগান। পরে যুক্তরাষ্ট্রে পাকাপাকি বসবাস শুরু করেন এই দম্পতি।

২০২১ সালের মার্চে জনপ্রিয় মার্কিন উপস্থাপক অপরাহ্‌ উইনফ্রেকে দেওয়া বিশেষ এক সাক্ষাৎকারে কয়েক শ বছরের পুরোনো ব্রিটিশ রাজপরিবার সম্পর্কে অনেক অজানা ও অপ্রিয় কথা প্রকাশ করেন ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্স হ্যারি ও মেগান।

ওই সাক্ষাৎকারে মেগান বলেন, বাকিংহাম প্যালেসের একজন শিকারে পরিণত হয়েছিলেন তিনি। তাঁর ছেলে আর্চির গায়ের রং কত কালো হতে পারে, সে অনুমান থেকে শুরু করে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে কতবার মধ্যাহ্নভোজে গেছেন, সবকিছুতে নাক গলাত প্যালেস।

২০২২ সালের জানুয়ারিতে তারা নিজ দেশে নিরাপত্তা চেয়ে যুক্তরাজ্যের একটি আদালতে আপিল করেন। ব্রিটিশ সরকার প্রিন্স হ্যারিকে পুলিশি নিরাপত্তা দিতে রাজি না হওয়ায় আদালতের শরণাপন্ন হন। এমন পরিস্থিতিতে নিজের দেশে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে যায় প্রিন্স হ্যারির।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের জৌলুশপূর্ণ জীবনের আড়ালে নারীদের অবর্ণনীয় কষ্ট ও বর্ণবাদের কথা প্রকাশ করায় গত বছর সম্মানজনক রবার্ট এফ কেনেডি মানবাধিকার পুরস্কার পান প্রিন্স হ্যারি ও তাঁর স্ত্রী মেগান মার্কেল।

রাজপরিবার ছেড়ে আসা ব্রিটিশ দম্পতিকে নিয়ে বানানো সিরিজ দেখতে রেকর্ডসংখ্যক দর্শক ভিড় করেন নেটফ্লিক্সে। গত ডিসেম্বর এক বিবৃতিতে নেটফ্লিক্স জানায়, সিরিজের প্রথম তিন পর্ব প্রকাশের পর ৮ কোটি ১৫ লাখ ঘণ্টার বেশি দেখা হয়েছে। ২ কোটি ৪০ লাখের বেশি পরিবার কমপক্ষে সিরিজটির কিছু অংশ দেখেছে। ‘হ্যারি অ্যান্ড মেগান’ সিরিজ প্রথম সপ্তাহে অন্য যেকোনো ডকুমেন্টারির তুলনায় ওটিটি প্ল্যাটফর্মটিতে সবচেয়ে বেশি সময় দেখা হয়েছে।

নেটফ্লিক্সে সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় সর্বাধিক দেখা ইংরেজি ভাষার সিরিজ এটি। এর আগে ছিল ‘অ্যাডামস ফ্যামিলি’। সিরিজের প্রথম তিন পর্বে সাবেক ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্স বেশকিছু বিতর্কিত বিষয় প্রকাশ করেন।

এতে মেগান প্রথমবার মৃত্যুর হুমকি পাওয়ার কথা স্মরণ করেন। প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে ছদ্মবেশ নেয়ার স্মৃতি ভাগাভাগি করেন হ্যারি। অবশ্য শোটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে অনেকে সমালোচনা করেছেন।

এবিসিবি/এমআই

Translate »