আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর সাংবাদিকদের ওপরে অত্যাচার নির্যাতন নেমে এসেছে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শুনেছি সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে কেন্দ্র করে সব সাংবাদিক ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এই ঐক্য টিকবে কতক্ষণ? সাংবাদিক সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের পরও দেখেছিলাম দু’পক্ষ এক হয়ে রাস্তায় নেমেছিল। কিন্তু তারপর চার-পাঁচ দিনও যায়নি। একজন আওয়ামী লীগ সরকারের উপদেষ্টা হয়েছেন, আরও কয়েকজনকে হালুয়া রুটি দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাস্তবতা হলো যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা হালুয়া-রুটির সন্ধানে থাকবো, ততক্ষণ পর্যন্ত রোজিনার মতো সাহসী সাংবাদিকদের কেউ রক্ষা করতে পারবে না।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ মে) বিকেলে বিএনপি আয়োজিত ‘অবরুদ্ধ গণতন্ত্র, শৃঙ্খলিত গণমাধ্যম: মুক্তির পথ কী’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে ও দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ডিউইউজের একাংশের সাবেক সভাপতি কবি আব্দুল হাই সিকদার, বর্তমান সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বক্তব্য দেন।
মির্জা ফখরুল জানান, সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটা সামগ্রিক বাংলাদেশের চেহারার একটি অংশ। তিনিই একমাত্র ভিকটিম নন। সরকার ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক সাংবাদিকদের ওপরে অত্যাচার নির্যাতন নেমে এসেছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সংবাদপত্র। বিদেশে চলে যেতে হয়েছে সাংবাদিকদের। এমনকি হত্যাও করা হয়েছে। গণমাধ্যমে তাদের দুর্নীতি অনিয়মগুলো যাতে প্রকাশ না পায় সেজন্য গণমাধ্যমের ওপর আঘাত করেছে।
তিনি আরও বলেন, বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমরা তো কখনও সোচ্চার হতে দেখিনি সংবাদপত্রগুলোকে। হয়তোবা ধরে নিয়েছেন এখনও আসেনি আমার ওপরও। এখন এসেছে আপনাদের ওপরে। দৈনিক প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানও বাদ পড়েননি। তার নামে হত্যা মামলা হয়েছে। মাহফুজ আনামের মতো সম্পাদককেও ১২৫টা মামলা নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হয়। দেশে ফ্যাসিজম যখন আসে, কেউ রক্ষা পায় না।