ট্রাম্পের ‘ম্যাগা বাহিনী’ মার্কিন গণতন্ত্রের জন্য হুমকি বললেন বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা ম্যাগা এজেন্ডার সমর্থকরা দেশটির গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। পেনসিলভানিয়ায় দেওয়া এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘ম্যাগা বাহিনী’ এই দেশটিকে পিছনের দিকে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।’ শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান নেতা কেভিন ম্যাকার্থি এর জবাবে বলেছেন যে বাইডেন ‘আমেরিকার অন্তরাত্মাকে মারাত্মকভাবে আহত করেছেন’। এই দুজনের বক্তৃতা এলো মধ্যবর্তী নির্বাচনের দুই মাস আগে, যে নির্বাচন ওয়াশিংটনে ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণ করবে।
এদিকে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ২০২৪ সালে ক্ষমতায় গেলে ক্যাপিটল হিলে হামলাকারীদের ক্ষমা করে দেবেন। ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনারও জানিয়েছেন যে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট বাইডেন বৃহস্পতিবার রাতে ফিলাডেলফিয়ার ইন্ডিপেনডেন্স হল থেকে তার ভাষণ দেন, যেখানে মার্কিন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তিনি ২০২০ সালে তার প্রচারণার মূল বিষয় বা থিম ঠিক করেছিলেন ‘আমেরিকার আত্মা’ পুনরুদ্ধার করা। তিনি বলেন, যে ৭ কোটি ৪০ লাখ আমেরিকান দুই বছর আগে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন তিনি তাদের নিন্দা করছেন না। বাইডেন বলেন, ‘সব রিপাবলিকান, এমনকি সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকানও ম্যাগা রিপাবলিকান নয়।’ তবে এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই যে আজ ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার ম্যাগা রিপাবলিকানরাই রিপাবলিকান পার্টিতে আধিপত্য বিস্তার করে আছে, তাদের দ্বারাই দলটি পরিচালিত ও প্রভাবিত এবং সেটিই দেশের জন্য হুমকি।’
প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ট্রাম্প সমর্থকরা গত বছর ইউএস ক্যাপিটলে হামলাকারী জনতাকে বিদ্রোহী নয় বরং দেশপ্রেমিক বলে মনে করে। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা নিজেদের বলেছিলাম যে আমেরিকান গণতন্ত্র নিশ্চিত। কিন্তু তা নয়। আমাদের এটিকে সুরক্ষা করতে হবে। এর পক্ষে দাঁড়াতে হবে। এটা আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব।’ ঘটনাস্থল থেকে বিবিসির এক জন প্রতিবেদক জানান, পুরো বক্তৃতার সময় কাউকে বুলহর্ন বাজাতে এবং ঝামেলা পাকাতে দেখা গেছে। বাইডেন দুইবার এই বিঘ্নের বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং দ্বিতীয়বার বলেন : ‘তাদের গর্হিত আচরণ করার অধিকার রয়েছে। এটিই গণতন্ত্র।’ দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি ট্রাম্পের সমর্থকদের বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্য দেওয়া শুরু করেছেন। গত সপ্তাহে বাইডেন ‘চরমপন্থি রিপাবলিকানদের আধা-ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে তুলনা করেন।
রিপাবলিকানদের প্রতিক্রিয়া
মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান সংখ্যালঘিষ্ঠ নেতা ম্যাকার্থি এর কিছু আগে বাইডেনের নিজ শহর পেনসিলভানিয়ার স্ক্র্যান্টন থেকে কথা বলেন। ক্যালিফোর্নিয়ার এই কংগ্রেসম্যান বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট আমেরিকানদের বিভক্ত করা, হেয় করা এবং অপমান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কেন? কারণ তারা তার নীতির সঙ্গে একমত নয়। এটা নেতৃত্ব নয়। তিনি বাইডেনকে লাখ লাখ আমেরিকানকে ফ্যাসিস্ট হিসেবে অপবাদ দেওয়ার জন্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
শীর্ষস্থানীয় এই রিপাবলিকান আরো বলেন যে, বাইডেনের শাসন ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, উন্মুক্ত সীমান্ত, কোভিডের কারণে স্কুল বন্ধ রাখা যা শিশুদের শিক্ষার ক্ষতি করেছে, আফগানিস্তান থেকে বিশৃঙ্খলভাবে সেনা প্রত্যাহার এবং দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক জাতীয় অপরাধের ঢেউ তৈরি করে আমেরিকাকে জর্জরিত করেছে। তিনি বলেন, ‘গত দুই বছরে, জো বাইডেন আমেরিকার আত্মার ওপর, তার জনগণের ওপর, এর আইনের ওপর, তার সবচেয়ে পবিত্র মূল্যবোধের ওপর আক্রমণ করেছেন। তিনি আমাদের গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ চালিয়েছেন। তার নীতি আমেরিকার অন্তরাত্মাকে মারাত্মকভাবে আহত করেছে, আমেরিকার চেতনাকে খর্ব করেছে এবং আমেরিকার আস্থার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’ এদিকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এক রেডিও সাক্ষাত্কারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াই করব। জিততে পারলে আমি ক্যাপিটল হিলে হামলাকারীদের ক্ষমা করে দেব। এটা খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি আমি।’ —বিবিসি ও সিএনএন
এবিসিবি/এমআই