খুলনায় ঈদের ছুটিতে সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া

খুলনায় সন্ত্রাসীদের কোনোভাবেই বাগে আনা যাচ্ছে না। ঈদের ছুটিতে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ সময় সন্ত্রাসীরা সাবেক সংসদ সদস্যের বাড়িসহ একাধিক জায়গায় হামলা চালিয়েছে। এতে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে সন্ত্রাসীরা খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম এম নূরুল ইসলামের নগরীর ব্যবুখান রোডের বাড়িতে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা রাত ১০টার দিকে বাড়ির গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বাসার গ্যারেজে রাখা প্রাইভেটকার কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। নূরুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম লুনিক বলেন, রাত ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে পাঁচ/ছয় জন যুবক বাড়ির সামনে এসে চিৎকার করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে প্রাইভেটকারের টায়ার কুপিয়ে নষ্ট করে। এ সময় গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে জানান তিনি।
এদিকে ঈদের দিন সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রূপসা উপজেলার বামণডাঙ্গা বাজারে দোকান লুট ও বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়।
স্থানীয়রা জানান, ঈদের দিন বুড়িগাঙনী গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে পাশের বামনডাঙ্গা গ্রামের অন্য এক যুবকের ঝগড়া হয়। ঐ ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বামনডাঙ্গা গ্রামের ১৫/২০ জন দুলাল ফকিরের দোকানে হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা দুলাল ফকিরকে কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় অভিযোগ করা হলে গত মঙ্গলবার সকালে সন্ত্রাসীরা তার বাড়িতে পুনরায় হামলা চালায়।
অন্যদিকে গত রবিবার সন্ধ্যায় রূপসা উপজেলার বাগমারা বাসস্টান্ড সংলগ্ন ব্যাংকের মোড়ে সন্ত্রাসীরা রুবেল নামে এক যুবককে গুলি করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়। এ সময় মাগরিবের নামাজে উপস্থিত মুসল্লিদের উপস্থিতি বেশি দেখে সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। রুবেল ঐ এলাকার মাদক ব্যবসায়ী বলে জানা গেছে। এছাড়া সন্ত্রাসীরা রামনগর এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রবিউল হক রবিকে গুলি করে কিন্তু গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তার বাম হাতে বিদ্ধ হয়। পুলিশের মতে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ঐ গুলির ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়া গত রবিবার রাত ১১টার দিকে পুলিশ নগরীর জাহিদুর রহমান সড়ক থেকে বিদেশি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড গুলিসহ মো. রুবেল খান নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানোয়ার হুসাইন মাসুম বলেন, নিরালা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা জাহিদুর রহমান সড়কের চেকপোস্টে ডিউটি করছিলেন। রাত ১১ টার দিকে মো. রুবেল খান পুলিশ দেখে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। তার এ আচরণ দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। এ সময়ে পুলিশ তার দেহ তল্লাশি করে কোমর থেকে ইউএসএর তৈরি একটি রিভলবার, পাঁচ রাউন্ড তাজা ও একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে।
এর আগে গত শনিবার রাত ১২টার দিকে নগরীর আরামবাগ এলাকায় যৌথবাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী গুলি বিনিময় চলাকালে এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় নগরীর আতঙ্ক শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ শেখ ও তার অন্যতম। সহযোগী কালা লাভলুসহ ১১জনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনটি পিস্তল, চার রাউন্ড পিস্তলের গুলি, একটি শটগান, ২৩ রাউন্ড শটগানের গুলি, দুইটি চাইনিজ কুড়াল, একটি চাপাতি, একটি হাসুয়া, দুইটি চাকু, চারটি মোবাইল ফোন, সাতটি মোটরসাইকেল এবং নগদ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সোনাডাঙ্গা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আজম খান বলেন, গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসী পলাশ শেখের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ মোট ১৪ টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তার মধ্যে দুইটি হত্যা, তিনটি ডাকাতি, একটি অস্ত্র, দুইটি চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য ছয়টি মামলা রয়েছে। পলাশ শেখের অন্যতম সহযোগী কালা লাভলুর বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি, একটি অস্ত্র, একটি চাঁদাবাজি ও একটি পুলিশকে আঘাতজনিত মামলাসহ ছয়টি মামলার অভিযোগ রয়েছে তার নামে। অন্য সহযোগী নূরে আলম সিদ্দিকী ওরফে লিয়ন শরীফের বিরুদ্ধে দুইটি এবং ইমরান হোসেন ট্যাটু ওরফে ট্যাটু ইমরানের বিরুদ্ধে একটি, ফজলে রাব্বি রাজনের বিরুদ্ধে একটি, রিপনের বিরুদ্ধে একটি ও ইমরানুজ্জামানের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।
-ইত্তেফাক