কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিবন্ধনে জনপ্রতি ৫০ টাকা

জেলা প্রতিনিধিঃ বিনামূল্যে করোনাভাইরাসের টিকার জন্য নিবন্ধনে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ২ স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে। টাকা দিলে নিবন্ধন পাচ্ছেন করোনার ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহীরা। আর যারা টাকা দিতে রাজি নন নিবন্ধনও করা হচ্ছে না তাদের।
গত বৃহস্পতিবার উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের গাজিনগর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি নুরজাহান বেগম ও পরিবার কল্যাণ সহকারী চন্দনা রানীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ প্রকাশ হয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
গাজীনগর এলাকার রঞ্জন আলী পাটওয়ারী বাড়ির মো. মিজান, রাশিদা বেগম, মেহেরুননেছা, আনোয়ার উল্যা পাটওয়ারী ও রমজান আলী পাটওয়ী বাড়ির হামিদ উল্যা পাটওয়ারী, তাছলিমা আক্তার, আফরোজা আক্তারসহ অনেকে বলেন, কমিউনিটি সেন্টার ও রমজান আলী পাটওয়ারী বাড়ির ইপিআই টিকাকেন্দ্রে বসে স্বাস্থ্য সহকারী সুনীল চন্দ্র দেবনাথ করোনার জন্য নিবন্ধন করেন। তিনি জনপ্রতি ৫০ টাকা করে নিয়ে করোনার ভ্যাকসিন নিবন্ধন করে দেন। যারা টাকা দিতে পারেননি তাদের এনআইডি কার্ডের নাম্বার লিপিবদ্ধ করেননি তিনি। গত ৩ দিন ধরেই তিনি এখানে এ কার্যক্রম করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন এলাকার লোকজন। গাজিনগর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি নুরজাহান বেগম এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেছেন।
গাজিনগর কমিউনিটি কিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসি) নুরজাহান বেগম জানান, ‘বিষয়টির সাথে আমি মোটেও জড়িত নই। আমার ক্লিনিকের ভেতরে বসে সেবা দেই আমি। বারান্দায় বসে স্বাস্থ্য সহকারী কী করেছেন তা আমি জানিনা। সহযোগিতার বিষয় তথ্যটি সঠিক নয়। আমি কারও কাছ থেকে পাঁচ টাকা নিয়েছি এমন তথ্য কেউ বলতে পারবেন না।’
স্বাস্থ্য সহকারী সুনিল চন্দ্র দেবনাথ জানান, ‘আমার ছেলের কম্পিউটার দিয়ে নিবন্ধন করিয়েছি। এটি আমার দায়িত্ব না হলেও আমি নিজ উদ্যোগে কোভিড-১৯ টিকার নিবন্ধনের জন্য এনআইডি নাম্বার খাতায় লিখে ৫০ টাকা করে কম্পিউটারের খরচ নিয়েছি। গত দু’দিনও অর্ধশতাধিক লোকের নিবন্ধন করে তাদের ভ্যাকসিন কার্ড দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজকে কোভিড-১৯ নিবন্ধনের জন্য টাকা দিয়েছেন এমন লোকের সংখ্যা প্রায় ৫০-৫৫ জন হবে। এদের কার্ড ২-৩ দিনের মধ্যে ক্লিনিকে নিয়ে দেওয়া হবে।’
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডাক্তার বাহারুল আলম জানান, ‘কোনো স্বাস্থ্যকর্মীর কোনো সুযোগ নেই এ ধরণের নিবন্ধনের। দায়িত্বের বাহিরে গিয়ে কোভিড-১৯ নিবন্ধনের নামে টাকা নেওয়ায় ঘটনায় খোঁজখবর নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।