Type to search

অপরাধ সারাদেশ

ফেসবুকে কিডনি কেনা-বেচার অবৈধ কারবার, চক্রের হোতা শহিদুলসহ আটক ৫

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবৈধভাবে কিডনি কেনা-বেচায় জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের অন্যতম হোতা শহিদুল ইসলাম মিঠুসহ চক্রের ৫ সদস্যকে রাজধানীর বনশ্রী, ভাটারা ও মিরপুর থেকে আটক করেছে র‌্যাব। মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়।

গ্রেপ্তার অপর ৪জন হলেন- মিজানুর রহমান (৪৪), মো. সাইমন (২৮), আল মামুন ওরফে মেহেদী (২৭) ও মো. রাসেল হোসেন (২৪)। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ভুক্তভোগীর সঙ্গে চুক্তির অ্যাফিডেভিট কপি, ভুক্তভোগীদের পাসপোর্টসহ মোট ১৪টি পাসপোর্ট, দেশী ও বিদেশি মুদ্রা, কিডনি ক্রসম্যাচিংয়ের বিভিন্ন দলিল, বিভিন্ন ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই ও এটিএম কার্ড, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের জাল সিলমোহর, সিপিইউ, স্ট্যাম্প, মোবাইল ও সিমকার্ড জব্দ করা হয়।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিডনি কেনা-বেচার এই চক্রের মোট সদস্য সংখ্যা ১৫-২০ জন। তারা মূলত ৩টি ভাগে কিডনি কেনাবেচা করেন। এই চক্রের সদস্যরা পাশের দেশে অবস্থানরত কিডনি কেনাবেচা চক্রের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে শতাধিক মানুষকে সেদেশে পাঠিয়েছেন। চক্রের প্রথম গ্রুপ ঢাকায় অবস্থান করে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন দরকার এমন বিত্তশালী রোগীদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে। দ্বিতীয় দলটি প্রথম দলের চাহিদা মোতাবেক দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরিব ও অভাবী মানুষদের চিহ্নিত করে এবং তাদের অর্থনৈতিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অর্থের বিনিময়ে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশনের জন্য ডোনার থেকে প্রলুব্ধ করে ঢাকায় নিয়ে আসে।

অন্য একটি গ্রুপ প্রলোভনের শিকার ভুক্তভোগী কিডনি ডোনারদের ঢাকায় বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন প্রত্যাশী রোগীর সঙ্গে ব্লাড ম্যাচিং এবং অন্যান্য পরীক্ষা নিরিক্ষা সম্পন্ন করে। ব্লাড ম্যাচিং এবং অন্যান্য ডায়াগনস্টিক টেস্টে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন এর উপযুক্ততা নিশ্চিত হলে, তার পাসপোর্ট, ভিসা প্রসেসিং এবং ভুয়া কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে ভূক্তভোগী ডোনারকে পার্শ্ববর্তী দেশে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করে। এই চক্রের সাথে পার্শ্ববর্তী দেশে অবস্থানকারী আরেকটি চক্র পারস্পরিক যোগসাজশে ভুক্তভোগী কিডনি ডোনারকে বিদেশের এয়ারপোর্ট অথবা স্থলবন্দরে রিসিভড করা থেকে শুরু করে হাসপাতালের ডকুমেন্টেশন, অস্ত্রপাচারসহ যাবতীয় কার্যক্রম শেষে ভিকটিমদের বৈধ/অবৈধ উপায়ে বিমান বা উত্তর পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত এলাকার মাধ্যমে দেশে ফেরত পাঠায়।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন জানান, আটককৃতরা এই চক্রের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধ উপায়ে হাতিয়ে নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে।

প্রতিটি কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য তারা রোগী প্রতি ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা গ্রহণ করতো। বিপরীতে তারা কিডনি ডোনারকে মাত্র চার থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করে এবং অগ্রিম দুই লাখ টাকা দিতেন। কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন এর পর প্রলোভনের শিকার কিডনি দাতাদের প্রতিশ্রুত অর্থ না দিয়ে নানাবিধ ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হতো।

এবিসিবি/এমআই

Translate »