Type to search

অপরাধ

বহুল আলোচিত ঠিকাদার জি কে শামীমের ১৮০ অ্যাকাউন্টে ৩৩৭ কোটি টাকা

বহুল আলোচিত ঠিকাদার জি কে শামীমসহ তার অস্ত্রধারী ৭ দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে একটি মামলায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি চার্জশিট দিয়েছে। গত বুধবার (৫আগস্ট) মানিলন্ডারিং আইনের মামলায় আদালতে এই চার্জশিট জমা দেওয়া হয়।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- জি কে শামীমের দেহরক্ষী মুরাদ হোসেন, শহিদুল ইসলাম,  জাহিদুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, কামাল হোসেন, আমিনুল ইসলাম এবং মো. সামসাদ হোসেন।

চার্জশিটি সিআইডি উল্লেখ করা হয়েছে, জি কে শামীমের দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে ১৮০টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৩৩৭ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত রয়েছে। এ ছাড়া তার ঢাকায় দুটি বাড়িসহ প্রায় ৫২ কাঠা জমি রয়েছে। ৪১ কোটি টাকা এসবের দাম। আলোচিত ঠিকাদার জি কে শামীম তার অস্ত্রধারী ৭ দেহরক্ষীকে দিয়ে মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টেন্ডারবাজি, বাস টার্মিনাল ও গরুর হাটে চাঁদাবাজি করে অপরাধলব্ধ এসব সম্পদ–অর্থ অর্জন করেছে বলেও মামলার চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিআইডির অর্গানাইজড ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াডের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু সাঈদ বলেন, গত বুধবার জি কে শামীমসহ ৭ দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আয় করা অর্থ বহুল আলোচিত শামীম বিদেশে পাচার করার চেষ্টা করছিলেন বলে তিনি জানান।

চার্জশিটে বলা হয়, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশের ১৮০টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৬ হাজার ৫৮ কোটি ৪৯ লাখ ৫১ হাজার ৮৪২ টাকা লেনদেন করেন এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে এর মধ্যে বেশির ভাগ ব্যাংক লেনদেন হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সিআইডির একজন কর্মকর্তা জানান, স্থায়ী আমানত ৩৩৬ কোটি ৩০ লাখ ৫১ হাজার ৪০৬ টাকার ওপর আদালতের আদেশে স্থিতি রয়েছে জি কে শামীমের। আটকের সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ১ কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ৯ হাজার মার্কিন ডলার এবং ৭৫২ সিঙ্গাপুরি মুদ্রা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকায় দুটি বাড়িসহ ৫১ দশমিক ৮৩ কাঠা স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করা হয়েছে তার। ৪০ কোটি ৯৯ লাখ ৮০ হাজার ২০০ টাকা এর দলিলমূল্য।

ক্যাসিনোকাণ্ডে অভিযানের শুরুর পর গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর র‍্যাব গুলশানের নিকেতনের বাসা ও কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বহুল আলোচিত জি কে শামীমকে আটক করে। ওই সময় তার সঙ্গে থাকা ৭ দেহরক্ষীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে  গুলশান থানায় অস্ত্র, মাদক ও মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করে র‌্যাব। এর আগে র‌্যাব মাদক ও অস্ত্র মামলায় অভিযোগপত্র দেয়। মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্য ৭ দেহরক্ষী জেলহাজতে রয়েছে। তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কারা হেফাজতে জি কে শামীম চিকিৎসাধীন রয়েছে।

Translate »