চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ৬

জেলা প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৫ জুন) দিনভর মিরসরাই-সীতাকুন্ড উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। মামলা দায়ের হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে পুলিশ তাদের আটক করে।
গ্রেপ্তাররা হলেন- সীতাকুন্ড উপজেলার মুরাদপুর এলাকার মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে নিজাম উদ্দিন রানা, মাহমুদাবাদ গ্রামের মো. দুলালের ছেলে আশরাফুল ইসলাম, শিবপুর গ্রামের ছালামত উল্যাহর ছেলে মো. ইসমাইল, বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মো. ইয়াছিনের ছেলে শাহাদাত হোসেন, মিরসরাইয়ের মধ্যম করুয়া গ্রামের নুরনবীর ছেলে বেলাল হোসেন ও একই গ্রামের মো. জিয়াউল হোসেনের ছেলে মো. সাগর। তাদের আটকের আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় ভুক্তভোগী তরুণী (২২) বাদী হয়ে নয়জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই তরুণীর বাড়ি নীলফামারী জেলায়। পোশাক কারখানার শ্রমিক হিসেবের কাজের সূত্রে চট্টগ্রাম থাকেন তিনি। গত ২৩ জুন বিকেলে কারখানার ছুটি হলে চট্টগ্রামের অলংকার মোড় থেকে পরিচিত মিনিবাস চালক আশরাফুল ইসলাম তার গাড়িতে তুলে তাকে সীতাকুন্ড এলাকার দিকে নিয়ে আসে। এসময় সীতাকুন্ড এলাকার একটি জুট মিলের সামনে বাসের সব যাত্রী নামিয়ে দিয়ে চালক আশরাফুল ও বাসের হেলপার শাহদাত হোসেন বাসের মধ্যে ধর্ষণ করে তাকে। ধর্ষণের পর রাতে সীতাকুন্ড নামিয়ে দেয় তাকে। এ সময় চাকরি সূত্রে ওই তরুণী পূর্বপরিচিত রায়হান উদ্দিন নামে একজনের কাছে ফোনে সাহায্য চায়। রাতে রায়হানসহ আরও কয়েকজন মিলে ওই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। পরে তাকে আরেকটি মিনিবাসে তুলে মিরসরাই উপজেলার সাহেরখালী ইউনিয়নের ডোমখালী বেড়িবাঁধ এলাকায় নিয়ে এসে রাতভর ধর্ষণ করে চলে যায় তারা। পরে বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়দের সহযোগীতায় সীতাকুন্ড থানায় গিয়ে পুলিশের সহযোগীতা চাইলে তাকে মিরসরাই থানায় পাঠায় তারা। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই তরুণী বাদী হয়ে মিরসরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মামলার পর মিরসরাই ও সীতাককুন্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২টি মিনিবাস জব্দসহ অভিযুক্ত ছয় জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরো কয়েকজনকে আটকের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।