ইউক্রেন সংকটে রুশ বাহিনীর বিপক্ষে লড়ছে মুসলিমরাও

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) পর্যন্ত টানা ১৬৩ দিনের মতো চলছে দেশ দুইটির সংঘাত। এতে দু’পক্ষের বহু হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। যুদ্ধে ইউক্রেনের পক্ষ হয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়ছেন দেশটির মুসলিমরাও।
ঠিক তেমনি একজন আলি খাদজালি। তাকে খারকিভে নিজ শহরে বিধ্বস্ত স্থাপনার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। শহরটি ইউক্রেন রাশিয়া সীমান্তের ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকে ছয়জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে খাদজালি মানবিক কার্যক্রম শুরু করেছেন। এই দলটি যুদ্ধাক্রান্ত বাসিন্দাদের মানবিক সাহায্য প্রদান করে আসছে। এছাড়াও দলটি তীব্র হামলায় লণ্ডভণ্ড হওয়া স্থানগুলো থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
৩০ বছর বয়সী খাদজালি একজন উষ্ণ মনের মানুষ। তিনি মাথায় টুপি ও গায়ে হুডির সঙ্গে কার্গো প্যান্ট পরিধান করেন। তিনি মধ্য মে মাস থেকে দিনের কার্যক্রম থেকে বিরতি নেন।
ইতোমধ্যে রুশ বাহিনী তার শহর থেকে পিছু হটেছে। কিন্তু অতিরিক্ত গোলাবর্ষণে উত্তরাঞ্চলের মফস্বল এলাকা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। রহস্যময়ভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকার একটি খেলার মাঠ রঙিন সরঞ্জামসহ পুরোপুরি অক্ষত রয়েছে।
ইউক্রেনের দ্বিতীয় বড় শহর খারকিভে খাদজালির জন্ম হয়। তার মা একজন ইউক্রেনীয় ও বাবা একজন সিরিয়ান নাগরিক। ২০১১ সালে যুদ্ধের পূর্বে তিনি নিয়মিত সিরিয়ায় যাতায়াত করতেন।
খাদজালি বলেন, তার দুটি স্বদেশেই আক্রমণ চালায় রাশিয়া।
২০১৫ সালে খাদজালি একজন ধর্মগুরু হন। যিনি একজন ইমাম যে কিনা সামরিক উপায়ে আধ্যাত্মিক পরিষেবা প্রদান করেন। ইসলামিক ভাইদের দ্বারা তিনি নতুন ভূমিকায় কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হন।
খাদজালি সবসময় তার দেশের জন্য কিভাবে কাজ করা যায় এই নিয়ে ভাবতেন। তিনি উপলদ্ধি করেন ডনবাসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছোট মুসলিম বাহিনীদের সাহায্য করাই তার জন্য উপযুক্ত।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধে নিজ দেশের সেনাবাহিনীর হয়ে কাজ করার চেয়ে ভালো আর কি হতে পারে।
ধর্মগুরু হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি খাদজালি বর্তমানে আরও উচ্চ পর্যায়ে কাজ করছেন। তিনি প্রায়শই যুদ্ধের বিপদসংকুল সম্মুখসারিতে যোদ্ধাদের সাহায্য করেন।
খাদজালির মতো ইউক্রেনের অধিকাংশ মুসলিমই রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিয়েছেন। তারা নিজ দেশকে বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রেখে লড়াই করছেন। কেননা রুশদের বিরুদ্ধে মুসলিমদের ওপর অন্যায় অত্যাচারের ইতিহাস বেশ পুরনো।
এবিসিবি/এমআই