রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে সরকার

পুলিশ ও প্রশাসনের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চরম দুর্নীতিপরায়ন, নির্যাতনকারী এবং রাষ্ট্রবিরোধী একটি দলের সঙ্গে আপনারা এভাবে জনগণের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়ন চালাবেন না। কারণ এই সরকার রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে এ কথা বলেন তিনি।
দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে মির্জা ফখরুল পুলিশ-প্রশাসনের উদ্দেশে আরও বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলের একটি কর্মসূচিতে পুলিশ হামলা করেছে। এত ভয় পান কেন? আপনাদের পায়ের নিচে মাটি নেই, ভয় পান এ জন্য। জনগণ যেদিন রাজপথে বের হবে, যেদিন সময় হবে, সেদিন আপনারা পালানোর পথও খুঁজে পাবেন না।
স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এখন সংগঠিত ও সুস্থ হন। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা যাতে একটি দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে পারি জাতীয় ঐক্যের মধ্যমে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। জনগণের সংসদ যাতে তৈরি করতে পারি, সেই লক্ষ্যে আমাদের আন্দোলন করতে হবে।
বিএনপি অবশ্যই নির্বাচন চায় জানিয়ে ফখরুল বলেন, সেই নির্বাচন হতে হবে, একটা নিরপেক্ষ সরকার থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে হতে হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। তবেই এ দেশে নির্বাচন হবে। অন্যতায় নির্বাচন হবে না।
‘প্রধানমন্ত্রী দেশে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চান’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এ বক্তব্যে সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ভূতের মুখে রাম নাম। এই যে গত তিন তিনটি নির্বাচন তারা ধ্বংস করল। এখন এমন একটা অবস্থা দাঁড়িয়েছে, সৈয়দপুরের এমপি বলছেন, আমি ঠিক করে দেব কে চেয়ারম্যান হবে এবং কে মেম্বার হবে! অন্য কেউ দাঁড়াতে পারবে না। আমরা চিন্তাই করতে পারি না, ১৯৭১ সালে এই গণতন্ত্রের জন্য আমরা লড়াই করেছিলাম? সেই গণতন্ত্রকে একেবারে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিয়ে তারা এখন একটা একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাদের নেতা এবং পাতি নেতাদের দৌরাত্ম্য আর থাকতে পারে না।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা বাজারে যান, বাজার করেন? বাজারে কী আগুন দেখতে পান? চাল, ডাল ও তেলের দাম কমছে, না কি বাড়ছে? বাড়ছে। ডিম, চিনি, কেরোসিন তেল, শসা এবং কাঁচাবাজারসহ একটা জিনিসের দাম আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই। সাধারণ মানুষ এখন আর ভালো খেতে পারে না। খায় কারা, আওয়ামী লীগের লোকেরা।
তিনি বলেন, আপনারা দেখবেন, জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়ছে। টুকু সাহেব বলেছেন, একটা সিন্ডিকেট আছে। সিন্ডিকেটরা কী করে, তারা তাদের মতো করে দাম বাড়ায়। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা, পাতি নেতা যারা আছেন, তারা আবার টোল ও চাঁদা নেন। পথে পথে ট্রাকের কাছ থেকে তারা টোল আদায় করেন। এ অবস্থায় দেশের মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। তাদের শ্বাস গলায় আটকে গেছে। আর বাড়ে না। বারবার শুধু জিজ্ঞেস করে, আর কত দিন আমরা কত নির্যাতন ও অত্যাচার সহ্য করব।
স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।-সমকাল
এবিসিবি/এমআই