‘ফের গরম রাজনীতির মাঠ’

‘ফের গরম রাজনীতির মাঠ’ এমন শিরোনাম দৈনিক কালবেলা পত্রিকার। নির্বাচনের পর পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে দুই বড় দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি আবারও মাঠে নামছে।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, শুক্রবার ও শনিবার বিএনপি কালো পতাকা মিছিল করবে আর বিপরীতে আগের মতোই শান্তি ও গণতন্ত্র সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। এছাড়া শুক্রবার ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি ইসলামী দলের কর্মসূচি রয়েছে। আবার রবিবার সব মহানগরে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভও রয়েছে।
বিএনপির আন্দোলনের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণে দলের নীতিনির্ধারকদের পাশাপাশি দলটির হাইকমান্ড মিত্রদের পরামর্শ নিয়েছে বলা হচ্ছে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দিদের মুক্তি, সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও ‘অবৈধ সংসদ’ বাতিলসহ একদফা দাবিতে শুক্রবার সব জেলা সদরে এবং আগামীকাল শনিবার সব মহানগরে বিএনপির কালো পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে এখন থেকে বিএনপির ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি চলবে বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে নির্বাচনের পর ‘অনেকটা খোশমেজাজে’ থাকা আওয়ামী লীগ বিএনপির কর্মসূচির বিপরীতে শনিবার তিনটা থেকে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে ‘শান্তি ও গণতন্ত্র’ সমাবেশের ডাক দিয়েছে।
প্রতিবেদনে নির্বাচন ও নির্দলীয় সরকার ইস্যুর পাশাপাশি শিক্ষানীতিসহ চলমান কিছু বিষয় নিয়ে ইসলামী দলগুলোর সরব হওয়ার কথাও উঠে এসেছে।
শিক্ষা কারিকুলাম সংশোধনের দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুক্রবার বিকেলে ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল করবে।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বাতিল করে দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থার দাবিতে খেলাফত মজলিসের কর্মসূচি দেয়ার কথাও বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। একই ধরনের দাবিতে রবিবার সব মহানগরীতে বিক্ষোভ করবে জামায়াত ইসলামী।

পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির খবরের পাশাপাশি জাতীয় পার্টির ছয় শতাধিক নেতার পদত্যাগের খবরটিও রয়েছে বেশ কয়েকটি পত্রিকার প্রথম পাতায়। জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিব মুজিবুল হকের (চুন্নু) বিরুদ্ধে দলে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে ১০ থানার ‘৬৭১’ জন নেতা-কর্মী পদত্যাগের কথা বলা হচ্ছে দৈনিক সংবাদে। আবার কালের কণ্ঠে সংখ্যাটি ৯৬৮ বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তন কেন্দ্রে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাপার নেতা–কর্মীরা তাদের গণপদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন।

এছাড়া রাজনীতি নিয়ে দৈনিক প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম করা হয়েছে- ‘সংসদে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট নন স্বতন্ত্ররা’।
সেখানে বলা হচ্ছে স্বতন্ত্ররা দলের বাইরে গিয়ে ভোট করে নির্বাচিত হলেও সংসদে আওয়ামী লীগেরই প্রতিনিধিত্ব করতে আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন তারা।
আগামী রবিবার তাদেরকে প্রধানমন্ত্রী গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তখন সংসদে ভূমিকা প্রসঙ্গে দিকনির্দেশনা পাওয়ার আশা করছেন তারা।
একাধিক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের সাথে কথা বলে প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে তাদের বড় অংশ বিরোধী দলে বসার বিপক্ষে এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গেই থাকতে চান তারা।

এর বাইরে ‘ডলার সঙ্কটে অস্থিরতা’ এই শিরোনাম দৈনিক নয়া দিগন্তের।
সেখানে বলা হচ্ছে জরুরি প্রয়োজনে পণ্য আমদানিতে ডলার সংগ্রহ করতে ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়ছেন। ডলারের সর্বোচ্চ দর ১১০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও ব্যাংক থেকে ১২৮ টাকা দরে ডলার কিনতে হচ্ছে।
ফলে পণ্য আমদানি করতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের মূল্যও বেড়ে যাচ্ছে, আবার ব্যবসায়ীর মুনাফাও কমছে।
ডলার সংকটে নিয়েই দৈনিক যুগান্তরের শিরোনাম- ‘ডলার সংকটের ক্ষত অর্থনীতির সর্বত্র’। অর্থনীতিই নিয়ে তাদের আরেকটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে।’

প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের বরাতে জানানো হয়েছে, আগামী অর্থবছরগুলোতে বিভিন্ন প্রকল্পে নেওয়া ঋণের বিপরীতে সুদ ও আসল পরিশোধের ধাক্কা সামলানো কঠিন হবে।
চলমান ডলার সংকটের কারণে বাড়তি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কার কথাও আসছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়িয়ে অর্থ ছাড় বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি)র বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হচ্ছে, চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) সরকারকে ১৫৬ কোটি ৭৮ লাখ ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে যেটি টাকার অঙ্কে প্রায় ১৭ হাজার ২৪০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
এর মধ্যে আসল ছিল ৯২ কোটি ৬১ লাখ ডলার বা প্রায় ১০ হাজার ১৮৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং সুদ ছিল ৬৪ কোটি ১৬ লাখ ডলার বা প্রায় সাত হাজার ৫৬ কোটি ১২ লাখ টাকা।
গত অর্থবছরের একই সময়ে পরিশোধ করা হয়েছিল ১০৫ কোটি ৩৪ লাখ ডলার, যা টাকার অঙ্কে প্রায় ১০ হাজার ১৪০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
আমদানিতেই যেখানে একটা টানাপড়েনের পরিস্থিতি সেখানে ঋণ পরিশোধের এই চাপ অর্থনীতিতে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা-এর মতো হতে পারে বলে শঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হচ্ছে।

‘রোজার পণ্যে সিন্ডিকেটের ছায়া’, এই শিরোনাম দৈনিক সমকালের। রমজান দেড় মাস দূরত্বে থাকলেও ক্রেতার পকেট কাটতে অসাধু ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই সক্রিয় হয়ে উঠছে এমনটা বলা হচ্ছে প্রতিবেদনে।
সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও নানা ছুতায় ছোলা, ভোজ্যতেল, চিনি, অ্যাংকর ডাল, খেজুর ও পেঁয়াজের মতো পণ্যের দরে এরই মধ্যে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে তারা।
প্রতিবেদনে, ডলারের দামের কিছুটা প্রভাব থাকলেও “আমদানিকারকরা কত দরে পণ্য আমদানি করছেন, চাহিদার চেয়ে মিল পর্যায়ে কী পরিমাণ মজুত রয়েছে– সেসব বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর” কথা বলেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
আবার চালের দামের প্রসঙ্গে দৈনিক সংবাদের শিরোনাম ‘মজুদদারির বিরুদ্ধে কঠোর সরকার, তবে দাম কমেনি খুচরা বাজারে।’
সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে মজুদদারির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি আর অভিযানের পর মিলারদের কিছুটা দাম কমানোর কথা শোনা গেলেও বৃহস্পতিবার খুচরা বাজারে চালের দাম কমেনি বলে উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।

এতে বলা হয়েছে, বাজার ঘুরে যেমনটা দেখা গেছে, খুচরা বাজারে বিআর আটাশ জাতের চাল এখনও বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬০ টাকায় আর মিনিকেট জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৭৫ টাকায়। আর পাইকারি বাজারে বিআর আটাশ জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৫ টাকায়। আর ব্রান্ড ভেদে মিনিকেট জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৪ থেকে ৭৬ টাকায়।
হযরত শাহজাজাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কোকেনে বৃহত্তম চালান জব্দের প্রেক্ষাপটে দৈনিক ইত্তেফাকের শিরোনাম ‘ব্যবসার আড়ালে আকাশপথে আসছে ভয়ংকর মাদক’।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে ব্যবসার আড়ালে আকাশপথে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ংকর মাদক আসছে এবং বাংলাদেশকে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে পাচারকারীরা। বুধবার বিমানবন্দরে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ আট কেজি ৩০০ গ্রাম সলিড কোকেনের চালান জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, যার আনুমানিক মূল্য ১০০ কোটি টাকা।

আফ্রিকার দেশ মালাউইয়ের নাগরিক গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এতে বলা হয়েছে, তিনি বাংলাদেশের একটি গার্মেন্টসের অফার লেটারে এসেছিলেন।
গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন ব্যবসার অন্তরালে ভয়ংকর মাদক অহরহ আসছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদের সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে শক্তিশালী সিন্ডিকেটসহ বিমানবন্দরের এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও জড়িত বলা হচ্ছে প্রতিবেদনে।
খসড়া টোল নীতিমালা ২০২৩ সংক্রান্ত বণিক বার্তার শিরোনাম ‘প্রতি বছর বাড়বে সড়ক সেতুর টোল।’ সেখানে বলা হচ্ছে ‘টোল নীতিমালা ২০২৩ (সংশোধিত)’-এর খসড়ায় টোলহার নির্ধারণ পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বলা হচ্ছে আগের নীতিমালায় টোলহার বাড়ানোর সুযোগ না থাকলেও নতুন নীতিমালায় টোলহার নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংযুক্ত করা হয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের ভোক্তা মূল্যসূচককে। এর ফলে ‘ভিত্তি টোলে’ কোনও পরিবর্তন ছাড়াই প্রতি বছর বাড়বে টোলহার।
প্রতিবেদনে বিবরণ দেয়া হয়েছে টোলহার সম্পর্কে। নীতিমালা কার্যকরের সঙ্গে সঙ্গে টোলহার এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়বে বলা হচ্ছে।
অবশ্য এ টোল নীতিমালা কেবল সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে ও সেতুর জন্য প্রযোজ্য। পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু সেতু, মুক্তারপুর সেতু, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এ নীতিমালার আওতায় পড়বে না।
‘উদ্বোধনের অপেক্ষা ছয় মেগা প্রকল্প’ এই শিরোনামে বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর উদ্বোধনের তালিকায় ছয়টি মেগা প্রকল্প রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যমুনা বঙ্গবন্ধু রেলসেতু, ডিপেন্ডেবল রানওয়ে, গাজীপুরের বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বাকি অংশ।
এতে বলা হয়েছে, কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপের মাতারবাড়ীর দ্বিতীয় ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করবে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে। যমুনা বঙ্গবন্ধু রেলসেতু উদ্বোধন হওয়ার কথা এ বছরের ডিসেম্বর মাসে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল অক্টোবরে চালু করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। ঢাকা-গাজীপুর রুটের বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প জুন মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। আর ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত বাকি অংশের কাজ শেষ হওয়ার কথাও রয়েছে এ বছর।-বিবিসি বাংলা
এবিসিবি/এমআই