পবিত্র কোরআন পোড়ানো বন্ধে ক্ষমতা বাড়ছে সুইডিশ পুলিশের

মুসলিমদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন পোড়ানো বন্ধ করতে পুলিশের ক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুইডেন। আইনটি সংশোধন হলে যে কোনো বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের অনুমতি দেওয়া বা না দেওয়ার ব্যাপারটি পুরোপুরি পুলিশের অধীনে চলে যাবে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানী স্টকহোমে গতকাল শুক্রবার (১৮ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির বিচারবিষয়ক মন্ত্রী গানার স্ট্রমের। তিনি উল্লেখ করেছেন, রাষ্ট্রীয় আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে শিগগিরই একটি কমিশন নিয়োগ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে গানার স্ট্রমের জানান, সম্প্রতি কোরআন পোড়ানোর টানা কয়েকটি ঘটনায় দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পর্যায় থেকে অসন্তোষ ও হুমকি আসছে। বিষয়টি সুইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
সংবাদ সম্মেলনে স্ট্রমের বলেন, ‘আমরা জানি না সব হুমকি কতটা সঠিক, কিংবা ফাঁকা। কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আমরা কোনভাবেই ঝুঁকিতে ফেলতে পারি না।’
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মুসলিম দেশগুলোর জোট অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি) উদ্যোগে জাতিসংঘেও সুইডেনের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। কোরআন পোড়ানোর সবগুলো ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন ইরাকের এক নাগরিক সালওয়ান মোমিকা, যিনি সুইডেনের অভিবাসী ছিলেন।
এদিকে সুইডেনের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সরকারের এই উদ্যোগকে ইসলামপন্থী বিশ্বের সামনে ‘নতজানু হওয়া’ হিসেবে বিবেচনা করছে। সরকারের সমর্থক দল সুইডেন ডেমোক্র্যাটস এ তালিকায় রয়েছে।
আদর্শগতভাবে অভিবাসনবিরোধী সুইডেন ডেমোক্র্যাটসের শীর্ষ নেতা জিমি অ্যাকেসন শুক্রবার (১৮ আগস্ট) এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বিভিন্ন ধর্মীয় মূল্যবোধের মানুষ যদি এক জায়গায় সহাবস্থান করে, তাহলে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা বলতে চাই, সুইডেন ডেমোক্র্যাটস কখনও ইসলামপন্থী ও স্বৈরাচারীদের হুমকির কাছে মাথা নত করবে না।’
এবিসিবি/এমআই